বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

মেনু নির্বাচন করুন

Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৯ অক্টোবর ২০২০

মো: শামীম আহসান

        রাষ্ট্রদূত মোঃ শামীম আহসান ০৪ অক্টোবর ২০২০ তারিখে বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি জেনেভাস্থ জাতিসংঘ কার্যালয় ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং সুইজারল্যান্ড ও  ভ্যাটিকানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রায় ছয় বছর দায়িত্ব পালন করেন। বিসিএস ১৯৮৪ ব্যাচের সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম স্থানের অধিকারী রাষ্ট্রদূত আহসান ১৯৮৬ সালের জানুয়ারিতে বিসিএস(পররাষ্ট্র) ক্যাডারের একজন সদস্য হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের ‘সচিব’ পদমর্যাদায় এবং ‘এ’ গ্রেড রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে পররাষ্ট্র ক্যাডার থেকে সম্প্রতি অবসর গ্রহণ করেন।

 

          পেশাগত জীবনের অধিকাংশ সময়ই রাষ্ট্রদূত আহসান বহুপাক্ষিক কূটনীতি সম্পর্কিত কর্মকান্ডের সাথে বিশেষ দক্ষতার সাথে সম্পৃক্ত থেকেছেন।  তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ অনুবিভাগের সহকারী সচিব হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু  করেন এবং পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক সংস্থা অনুবিভাগের মহাপরিচালকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে কাউন্সেলর এবং নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে কাউন্সেলর/মিনিস্টার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, নয়া দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন (১৯৯০-১৯৯৪) ও কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনে (১৯৯৮-২০০০) কাজের সুবাদে এবং পরবর্তীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার প্রধান এবং আমেরিকা ও প্রশান্ত অনুবিভাগের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে মূল্যবান কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। রাষ্ট্রদূত  হিসেবে সর্ব প্রথম ইরানে তিনি ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন  করেন। এর পর তিনি ব্রুনাই দারুসসালামে বাংলাদেশের হাই কমিশনার (২০০৯-২০০১২) এবং ব্রাজিলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত(২০১২-২০১৪)  এর দায়িত্বে  নিয়োজিত ছিলেন।

 

          জনাব আহসান জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষে  ২০১৫ সালের নভেম্বরে দীর্ঘতম সময়ের জন্য ওষুধের মেধাসত্ত্ব সংরক্ষণের দায়ভার থেকে স্বপ্লোন্নত দেশগুলোর অব্যহতিলাভ সম্পর্কিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ আপস আলোচনায় নেতৃত্ব দান করেন। ফলে এই  দেশগুলি ২০১৬ সাল থেকে আরো ১৭ বছর অর্থাৎ ২০৩৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত উক্ত দায়ভার থেকে অব্যহতিলাভ করে  যা ওষুধ উৎপাদনে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের চলমান অগ্রযাত্রায় অত্যন্ত  ইতিবাচক ভূমিকা রেখে আসছে । ২০০০-২০০১ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত অস্থায়ী সদস্য পদে  বাংলাদেশের মেয়াদে জনাব আহসান নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এছাড়া ২০০২-২০০৩ সময়কালে তিনি নিউইয়র্কস্থ স্থায়ী মিশনের সামরিক উপদেষ্টা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা হিসেবে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো এবং সিয়েরা লিওনে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী মোতায়েনের কাজে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

          রাষ্ট্রদূত আহসান জেনেভাস্থ মানবাধিকার কাউন্সিলে নির্বাচিত সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের ২০১৫-২০১৭ মেয়াদের পুরো সময় এবং পরবর্তীতে ২০১৯-২০২১ মেয়াদের প্রথম দু’বছর স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। এছাড়া জেনেভায় তিনি নিম্নলিখিত পদসমূহে কর্মরত ছিলেন:  জাপানের সেনদাইয়ে অনুষ্ঠিত দূর্যোগ হ্রাস সম্পর্কিত জাতিসংঘের সম্মেলন এর মূল এবং প্রস্তুতিমূলক কমিটি সদস্য এবং ব্যুরোর সহ-সভাপতি; বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার স্বপ্লোন্নত দেশসমূহের পরামর্শক গ্রুপের সমন্বয়ক (২০১৫-২০১৬), গ্লোবাল কমিউনিটি এনগেজমেন্ট রেসিলিয়েন্স ফান্ডের পরিচালনা পর্ষদের বিকল্প সদস্য;  জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশসমূহের বৈশ্বিক সমন্বয়ক;  জেনেভাস্থ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আইন সম্পর্কিত পরামর্শক কেন্দ্রের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য; জাতিসংঘের বাণিজ্য এবং উন্নয়ন বিষয়ক সম্মেলনের “ই-কমার্স এবং ডিজিটাল অর্থনীতি” সম্পর্কিত আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিশেষজ্ঞ গ্রুপের সভাপতি এবং নিরস্ত্রীকরণ  সম্মেলনের সভাপতি।

 

          রাষ্ট্রদূত আহসান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রী লাভ করেন। কূটনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি  ফ্রান্সের ভিশিস্থ সেন্টার অডিও ভিজুয়েল দ্য লংগ মডেরন (CAVILAM)-এ ফরাসি ভাষার উপর নিবিড় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে প্যারিসের ইন্সটিটিউট ইন্টারন্যাশনাল  দ্য এ্যাডমিনিস্ট্রেশন পাবলিক থেকে  “ডিপ্লোম দ্য ল’ ইন্সস্টিটিউট” সহকারে কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ কোর্স প্রথম স্থান অধিকার করে সম্পন্ন করেন। এছাড়া, তিনি প্যারিস ঢ১ বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন মনেট অনুষদ থেকে “আন্তর্জাতিক সংস্থার কূটনীতি ও প্রশাসন এর উপর স্নাতকোত্তর  ডিপ্লোম দ্য এতুদ সুপিরিয়ার  স্পেশালিজে” (ডিএসইএস) অর্জন করেন।

 

          অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়াদি, নব ও উদীয়মান প্রযুক্তি, ভাষা ও সংগীত বিষয়ে রাষ্ট্রদূত আহসানের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তিনি ইংরেজি ও ফরাসি উভয় ভাষাতেই লিখন ও কথনে সক্ষম ও সাবলীল।



Share with :

Facebook Facebook